Next Page

Translate

কবিতা বিভাগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কবিতা বিভাগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

Bengali love Poem Cithi

Bengali-love-Poem-Cithi

" চিঠি "  

    প্রিয়তমাসু--!
                                  

জানিস পূজা--
আজ আবার গভীর রাতে এসেছিল তোর মা অনেক দিন পর। নিকষ কালো হিমেল রাতের কুয়াশা চাদর চিরে-- গুটি গুটি পায়ে এসেছিল ঘরের ভিতর ! কাঁথা মুড়ি শীত ঘুম যখন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছিল--

চরাচর । অদৃশ্য কোন্ পথে যোগসূত্র গেঁথে জেগে ছিল কোনো মতে দিগ্বিদিকে কুচিকুচি সব প্রাণের স্পন্দন--! দিগন্তের ওপার হ'তে মাটিতে আছরে পড়া ঊষসী আলোর প্লাবনের শব্দের মতোন !
 সমস্ত রাতের একটা সময় যখন--সবকালো নিশ্ছিদ্র
জমাট হ'লে আরও কালো দৈত্য রাত চরাচরে শব্দ যতো আত্মস্হ করে নেয় নিজের ভিতর--! যেন মরণকে আপন করে কোলে তার ঢলেপড়া সমর্পণ--! জেলের কয়েদি-প্রহরী হতে জল-স্হল-অন্তরীক্ষের সমস্ত নিশাচর--! শুধু জেগে থাকা একটি মাত্র বিরামহীন অশ্রুত শব্দ--দৈত্যটার কালো গহ্বরে দিগ্বিদিক গ্রাস করা নিঃসীম এক শূন্যতার মতো--- অনন্ত অথৈ পারাবার--! এইসব স্পন্দিত প্রিয় জীবনের অমোঘ যোগসূত্রে প্রাপ্ত-- হু-হু- হা-হু-তা-শ হা-হা-কা-র--!!
আর জানিস পূজা --
ঠিক তখুনি বুঝি মৃতেরা ফিরে আসার অবকাশ পায়
সেই অলক্ষ্য সূত্রধরে যার'যা আপনার প্রিয়জন পাশে
কতো কতো না বলা কথা-- দিনে রাতে বুক পেতে স'ওয়া কতো কতো কুচিকুচি অসহ্য ব্যথা--ভাগ করে নিতে চেয়ে ব্যর্থ হ'ওয়া--ভুলতে চেয়ে--ভোলাতে চেয়ে কি বিষম আকুল আর্ত্তিতে বুঝি নতুন করে শোনাতে চেয়ে শুনতে চেয়ে আবার ফিরে ফিরে আসে--!!!
যেমন করে তুইও এসেছিলি কতোবার মনে পড়ে--!!
ভুলে গেছি মুখটা তোর এই ক'বছরে একেবারে--
আর কেন আসিস না ফিরে--!!!

বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২

Poetry-Aaj- ekon-a-Kabya-din

Poetry-Aaj- ekon-a-Kabya-din


আজ একোন অ-কাব্য দিন!!!

আর কাব্য না---সে কাব্য-কবিতা গাঁথা কোথা আর!
অমোঘ কাব্য-কায়া মরে গেছে বহু দিন---বহুবার ;
লাশকাটা ঘর হতে কাটাছেঁড়া দুর্গন্ধ পচা-গলা
শব্দ-শব তার---দুহাতে ছাপ করে এই আমরা ক'জন
প্রাতিষ্ঠানিক--কোনোমতে টিকে আছি আর--
ফেসবুক-টুইটারে কখনো হোয়াটসঅ্যাপ-ম্যাসেঞ্জারে
নয়তো ছয়লাপ চ্যানেলে অজস্র অপলাপ অপপ্রচারে
অবোধশিশু হাতে ধরিয়ে দিয়েছে চুষোকাঠি অন্তহীন
অন্তর্বর্তীকালীন অবকাশে নতুন কোনো ছলনার জাল
বোনায় ডুবে আছে যারা রাতদিন-নিশিদিন ।
এভাবে শিশু ভোলানো খেলা আর কত-কত-দিন!!
দুগ্ধ-পোষ্য শিশু খিদের জ্বালা ভুলবে কি করে--
বুভুক্ষুতার যন্ত্রণা গিলতে গিলতে বিকট চিৎকারে
একসময় চুষোকাঠি ফেলে দেবে ছুঁড়ে---!
মৃত্যু-মুহুর্তে মুষ্ঠিবদ্ধ দু'হাত আকাশে তুলে 
শোনাবে তোমায় অন্তহীন মৃত্যুর গান!
সহস্র বছর ধরে যে পাপ জমা হয়ে আছে দিনে রাতে
দিতে হবে কৈফিয়ত সব হিসেব হবে চুকাতে।
বর্ষিত মাথার উপর জেগে থাকা যত অভিশাপ      
নেমে হবে ছারখার---শুধু মৃত্যুর হাহাকার-ধ্বংসস্তুপ ।
কান পেতে শোনো  অই অষ্টা-দশী পড়ুয়া কিশোরী
কন্যা তোমার--অন্ধকারে মেলেছে গা কি বিষম
পাপের শিকার!বাহাত্তুরে বন্ধু চেয়ে রাতভর উলঙ্গিনী
প্রহস্ত রোজগার---!
এইসব জীবন্মৃত অহরাত্র ওষ্ঠাগত প্রাণের সমবেত উচ্চারণ

--অচিরেই চূর্ণ করে দেবে তোমার সকল শিরস্ত্রাণ !!! 

মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২২

Poem-Pratiksa

প্রতীক্ষা--!!!

(তাং--২৫শে জানু,২০২২)

অহর প্রহর খুঁটে খাওয়া উদর-জ্বলা বিবর্ণ দিন
রোদভাঙা পাখির ডানায় দিগন্তে পাড়ি দিলে
চিকচিক করে ওঠা নক্ষত্রের চোখে জল ঝরে--;
সন্ধ্যা ঘনায় ! শরতে সব রঙ উজাড় করে কৃষ্নচূড়া ঈশান কোণে ঘাট পুকুরে হেলান দিয়ে নিঃশ্চুপ
দাঁড়িয়ে একাকী প্রহর গোনে ; অগ্নিকোণে উঠোনে
উবুর হয়ে কামিনী-মাধবী তৃষিত মরু বুকে তোমার
পদচারণার শব্দ-গন্ধ আকিঞ্চনে আড়চোখে চেয়ে থাকে । ওদের গা ঘেঁষে শ্বেতপাথরে বসে তুলসীও
উর্ধ্বমুখে উচাটন--কি বিষম নৈঃশব্দ্য প্রহর জোড়া
উৎকর্ণতার  হাটখোলা সদর--!
আমাকে একাকী ফিরতে দেখে বুকভাঙা এক উঠোন হু-ম্-ম্ যেন ঝরে পড়ে ছড়িয়ে যায় চত্বরময়--!যেন
ঘনায়িত রাত্রির জমাট সব কালো কেঁপেকেঁপে ওঠে--
বিরামহীন ঝিঁ ঝিঁ ডাকে---- কুচি কুচি নিশিভাঙা জোনাকির সর্পিল বক্ররেখায়--!
তুমি চলে যাবার পর বসন্ত ভুলেও মাড়ায় নি এপথ।
শরত এসেই পালিয়েছে । বসিয়ে রেখে গেছে হিমানীকে । চিরকালীন জবরদখল ।যেন তোমার বিতানের ইহকাল !
সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বেলে আমিও ওদের সঙ্গী-- চেয়ে থাকি উন্মুক্ত সদরে --!এসেই যদি না পাও সামনে--!!
যেন কতো কতো কাল --কতো হাজার বছর -- এই অপার চেয়ে থাকা--! যেন সেই অনাদি কালের হতে ছায়াসঙ্গী   এই বিষাদের সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বেলে রাখা--!প্রতীক্ষার প্রহর গোনা ---!!!

Poem-Premer-ekal-sekal

প্রেমের একাল-- সেকাল--! (কবিতা যখন কথা হলো--)

দিগ্বাস-কবিতা-প্রেমের-একাল-সেকাল




 এ কোন্ প্রেম আজ গলে গলে পড়ে--

মুষ্ঠিবদ্ধ রঙিন আলোর ক্যানভাসে রামধনু কাঁচ-পর্দায়--একুশ শতকের কি বিষম এই অত্যাশ্চর্য
উপহারে--; নিঁদছুট মধ্যরাত টপকানো ঘনায়িত নষ্ট প্রেম আর আঁঠালো অন্ধকার একাকার--!
সে কোন্ দূর পারের নগ্ন-শরীর যাচনার--?
সাতপাকের শয্যাসঙ্গী একপাশে বিছানার--যেন বহুদূরে--আকুল অবসাদে ক্লান্ত যেন তার পাথর শরীরে নিঃশ্চুপ নিঃশ্বাসে গোনে অপেক্ষার অহর-প্রহর--!                                  ‌ ‌             
রসনাসিক্ত যৌনকাতর অনাদৃত প্রেম কোন্ ছবি আঁকে--লিপ্সার লালায়িত অপলক চোখ খোঁজে কাকে--বিকৃত কামনায় পচাগলা নর্দমায় কোন্ অঙ্গ যাচে-- সুখশয্যা অবহেলে নিভৃত শান্তি-নীড় স্বহস্তে মুছে--???
না--- কবিতা হয়ে যাচ্ছে--;
কথা ছিলো-- কথা হ'বে --;কাব্য নয়--‌।
তবে এসো খানিক মিডিয়ায়--হট্স্-এ্যপ ম্যাসেঞ্জার সৌখিন কাঁচপর্দায়-- যৌনতাড়িত বিকৃত-প্রেম --- যখন ঘুম খেয়ে রাতভর উঠে আসে বিছানায়--!!
(---এই বুকের ও-দুটো দেখাও
---বেশ, তুমিও নীচের টা খুলে আলো জ্বালাও
---এই তো দিলাম--- চলবে তো তোমার
---খুউব--এবার সবটা খোলো সোনা আমার---)
আলোকপাতের দু'পারে দুটো নগ্ন মানব শরীর যেন
পাশেই ইউ-টিউবে দাঁড়িয়ে থাকা বন্য-প্রাণীর--
উন্মত্ত রিরংসার কুৎসিত ক্ষুধার উন্মুক্ত বিনিময় একাকার--!!!
মনে পড়ে যায়--!
"মোঘলে আজম"দরবারি কানাড়ায়
অমৃত সুরের মূর্ছনা ঝরে পড়ে আঙিনায়--!
"পেয়ার ক্যায়া তো ডরনা ক্যায়া--ছুপ ছুপকে
মরনা ক্যায়া---"আনারকলির অমোঘ উচ্চারণে
উৎসর্গিত জীবন-প্রেম যখন দাঁড় করায়-- নিষ্ঠুর মৃত্যুর দরজায়----!!
আকবরের রাজসভার পশ্চাতে অদূরে মালঞ্চ
লতা-বিতানে নক্ষত্র খচিত সুবেশী রূপসী আনারকলি দিবাবসানে--শায়িত পুস্প-শয্যায়--
অর্ধনিমীলিত নেত্রে অখণ্ড-প্রেম-সায়রে নিমগ্নতায়
নিমজ্জিত--! তার চন্দ্রকান্তা মুখো'পরি প্রসারিত সেলিমের করতলে সুগন্ধি গোলাপের স্নিগ্ধ প্রলেপন--!
রাতের আকাশ উজাড় করে ঢালে রূপোলি স্নিগ্ধ-মেদুর-জ্যোৎস্নী--; অট্টালিকা গবাক্ষ-পথে তানসেনের ঐশী বৈভব-- ; স্বর্ণ-কন্ঠ-নির্গত রাগ মেঘমল্লার--! সুরের স্রোতস্বিনী জাহ্নবী ভেসে চলে
সঙ্গমে--!অনির্বচনীয় কোন অমোঘ আনন্দলোকে !
ভাসমান পরদেশী মেঘ দাঁড়ায় থমকে--! গুরু-গুরু
ডম্বরু ডাকে  যেন নৃত্যের অশনি ঝিলিক খেলে
অঝোরে বৃষ্টি ঝরে--আর আনারকলির আঁখিপাতে
অশ্রু গড়িয়ে পড়ে--!
সুনির্মল বিশুদ্ধতায় অবগাহন--!মানবী-প্রকৃতি প্রেমে একাকার মহামিলন--!!!
পৌরাণিক ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসে 
রাধা-কৃষ্ণ ! লতা-বিতান আড়ালে নিস্পলক নিঃশ্চুপ অবলোকন--!
এমনি রাত পার হয়ে যায়---
উষসী আলোর ছোঁয়ায় বিতানে মুখরিত কূজন
নিঃশ্চল পক্ষীকুল দ্যাখে--"রাধিকা-আনারকলি--
কৃষ্ণ-সেলিম" !!
ইতিহাসের অমর প্রেমের বিবর্তিত রূপ--অঙ্গে
অঙ্গে সমাহৃত ক'রি--!!!


শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২২

। কবিতা মধুকাল শব্দ যাপন । Bangla Poem Madhukal । প্রেমের কবিতা । বসন্তের কবিতা ।


 মধুকাল শব্দ যাপন ! bangla poem-Madhukal

Bangla-Poem-Madhuka
ফটোগ্রাফি, Photography,  Nature Photography.

(২৬-শে চৈত্র ১৪২৭)



শয্যায় নেই আর কোনো গন্ধ তোমার অবশিষ্ট--
ভিটে-বাটি-উঠোনে ও জেগেছিল যেটুকু অতিরিক্ত
নিদাঘ-বসন্ত নিঃশেষে সব ক'রে আত্মস্হ--
নিশ্চুপ চেয়ে আছে দূর আকাশে---!
একদা সুন্দরী স্রোতস্বিনীর মতো---;বিরহানলে পুড়ে পুড়ে
অবশেষে ডানা মেলে উড়ে গেছে মেঘেদের দেশে ।
অরণ্যে পড়ে থাকা নিশ্চল মৃত অজগর যেন
জীর্ণ-কঙ্কাল শরীর জুড়ে তার যে গন্ধ জেগে আছে
একাকিনী বিরহী কোনো দিগ্বধূ অবিচল চেয়ে থেকে
অকালে হারানো মধু-যাপনের বাসি গল্প খোঁজে--।
পৃথিবীর যোনি হ'তে অমোঘ যাপন-ক্রিয়ার যে গন্ধ
ভেসে আসে ,বহতা তপ্ত-ধারায় মিশে--থরথরিয়ে
কাঁপন তোলে নব-নব পল্লবে। বসন্ত-মালিকারা
কানে-কানে ফিসফিসিয়ে হিসেব কষে---কার কার
কাছে কতো অলি ভিড় ক'রে আছে বসে।
বারতা-বাহী ওষ্ঠ-লগ্ন সিক্তরেণু রমণ-চিহ্ন বয়ে বেড়ায় ---
রজঃস্বলা মধুকাল মধুযাপন -পরকীয়া সোহাগলিখন
ছড়ায় আকাশে বাতাসে--।
বিগত বসন্তেও ছিল পাশে গন্ধ-মাখা তোমার যাপন
ভাগ করে নেওয়া এসব উদযাপন চরাচরে ভাসমান
ফিরে ফিরে আসি আজ ও তেমনি শয্যাপ'রে
তোমার গন্ধ-মাখা অশরীরী-আত্মজ শব্দেরা ভিড় ক'রে।
মগজের ভিতর থেকে অদৃশ্য কোন পথ ধরে
বাসন্তিক নদীর মতো অসাড় পরে থাকা শরীর জুড়ে
রাতভর ঘুমনাশা দুচোখের পাতায় জেগে থাকে---
হায়! আমার প্রিয়তম --মধুকাল শব্দ যাপন!!!


আরও পড়ুন...

শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২

। বাংলার কবিতা । 30-Chaitra-a-poems-about-life । bengali kobita।

 ৩০-শে চৈত্র মধ্যরাতের কবিতা

30-Chaitra-a-poems-about-life
চিত্রকলা, pencil drawing, 


৩০-শে চৈত্র ১৪২১

তিরিশে চোত ! তূমি থমকে থাকো আপাতত
একুশের বুক-চাপা ধুনোর গন্ধে সন্ধ্যে বাঁওড়ানো
রাত্রিকালীন ঝাঁপ-বন্ধ দরজায়  ।
দাঁড়ানোটাও একরকম চলা--- গাছের মতো :
আমরা বিগত সাত দশক ধরে এগিয়েছি
না কি পিছিয়েছি !!!
গতিটার ধরণ ত্বরণ না মন্দন--তুমিই বলতে পারো
সবথেকে ঠিকঠাক ।
বেওয়ারিশ গণতন্ত্রে দু'বেলা পোশাক পাল্টে
যদি এগিয়ে থাকি---
তবে সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত এই "মৃত্যু-সহবাস
অহরহ"----আমাদের সহ্য হয়ে গেছে ।
এবং আমরা এখন সবথেকে সভ্য ভাবেই অভ্যস্ত
যাবতীয় বিরোধকে বুকে ধ'রে 
সোহাগ-চুম্বন-চিহ্ন এঁকে দিতে :
এ বিষম উষ্ণ-বসন্ত-দিনে তরমুজের হিমেল রসায়ন
আমাদের এ-নিয়মটা শিখিয়েছে ভালো করে ।
বেসুরে সুর মেলানোর ওরাল-রি-হাইড্রেশন্
গলদঘর্মের দিনে খুবই কার্যকর ;
সেহেতু বুনো আম খেয়ে কাচমিঠে বলতে পারাটা
এখন রীতিমতো আদব । তাতে বুনোর অম্লত্ব 
এবং কার্যকারিতা ---না কমে , ব'ই বাড়ে ।
সুভাষ বসুর সঙ্গে এখানেই যাবতীয় বিরোধ
ভদ্রলোক প্রেমিক ; আধুনিক এ নিয়মটা রপ্ত 
করেন নি ঠিকঠাক ‌। আর তাই ভীষণ তপ্ত দিনে
বিষম চলার পথে একপলক ও না থমকে
অন্তরীণ হয়ে যাওয়া মধ্যপথে ।
আর যদি দাঁড়ানোটা অসহ্য'ই হয় একান্ত
চলতে চাওয়া নদীর মতো ---তবে কথা দেওয়া ভালো
বীজ বোনার আগে অন্তত --
নারী এবং মাটির সাথে কথা কবো--এবং 
আল্ট্রাসনোগ্রাফির  আগে হবে তার শনাক্তকরণটা
যথাযথ । অন্ততঃ আর কোনো পিতৃ-পরিচয়ের 
ছুৎমার্গিতায় হ'ব না নিছক উন্মাদগ্রস্ত ।
কেননা জন্মানোর আগে এবং পরে আমাদের 
পিতৃ-পরিচয়টাও সেই নারী এবং মাটিই দেয়
শেষপর্যন্ত ।আর আমরা এখন বুঝি তাই অনায়াসে
করতে পারি "সব অধিকার" তালিকাভুক্ত !!!


রবিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২২

Poem-swapna-kathamala

স্বপ্ন কথামালা--!!

Poem-swapna-kathamala


সব কবিতাই কথা-- সব কথা কবিতা না--

কথা যখন শৈল্পিক --তখনি কবিতা !
চেতনার দ্যোতনায় ঘোচায় যতো দুঃখের অমানিশা।

শব্দচয়নে-- নির্মেদ নিটোল সুতনু তন্বী যেন মোহময়ী
সুন্দরী কবিতা । এলোকেশী বিবসনা দিগ্বসনা রমণীয় রমণী কবিতা। জনান্তিকে সে কোন্ দূর
তপোবনে নিভৃত সাধক কবির অলৌকিক রোমন্থনে
ঘনায়িত প্রেমে চুম্বনে চুম্বনে অত্যুগ্র এষণার অপার রমণে--মগজ-বাহিত অক্ষর ওজঃস্খলনে শব্দ-ব্রম্ভের
যজ্ঞানল হ'তে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে কোমল কবিতা কামিনী--!!
যার সুডৌল স্তনদুটি বক্ষজুড়ে শোভা দেয় মুক্তাহারে
নিপাত যাক বিশ্বজোড়া যতো দ্বেষ-হিংসা চরাচরে--!
নিবিড় যতনে বাঁধো আমার সবটুকু পৌরুষ তোমার অমৃত বাহুডোরে--!কর্ষিনী অঙ্গের ভাঁজে ভাঁজে অম্লান দ্যুতিকণা ঝর্ণার মতো ঝরুক শ্বেতাসনে--!!

শিউরে উঠি!চমক ভাঙে। দিবাস্বপ্নের--। অসময়ে শীতের আকাশে-- কালো মেঘ। ভয়াল কর্কশ স্বরে বর্জ্র পতন। শিহরিত দু'চোখের শূন্য দৃষ্টি জুড়ে--
হা-হুতাশ--! কোথা সে মহাকবি বাল্মীকি-বেদব্যাস
কালিদাস মধুসূদন !বুঝি এমনি স্বপ্নভাঙা বর্জ্রপতনে
খান খান হয়ে যাওয়া সব কাব্যকথন--!!!

তাই আমার একথা কবিতা না-- । কেবলই কথা।
অশৈল্পিক । লৌকিক। অগোছালো কথামালা।
এলোমেলো বিশৃংখল আত্মকথন। পাগলের প্রলাপ।
হতভাগ্যের আত্মবিলাপ। বলে যেতে হয়।মুক্তির আশায়।তার কথা-- তাহাদের কথা--! আঁধার উবুর
করে ঢেলে মধ্যদিনে  যারা ঘর ভাঙে--দাবানল জ্বলে
যাদের অহর্নিশি বুকের পাঁজরে--উন্মুক্ত দাওয়া হতে
স্বজন হারা উঠোনে ! কাটালাশ ঘর হতে রাজপথে ফোঁটা ফোঁটা রক্তের নোনা দাগ সারমেয় খায় চেটে !
আমার বিবসনা কবিতাকায়া সেইসব শব্দকাটা যন্ত্রণার হৃদয়ের নৈঃশব্দ্য আকুল অনলে দগ্ধতার আঁশটে গন্ধ মেখে উঠে আসে -- বিভৎস উল্লাসে।
আমার প্রত্যঙ্গে তাহাদের ছায়া ঘিরে থাকে -- নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে তাহাদের হাহাকার মিশে নিশ্চিন্ত
রাত্রি ঘুম নাশে--!!
কমলিকা কবিতার সুতনু লাবন্য দ্যুতি ক্ষয়ে ক্ষয়ে
পুড়ে পুড়ে কুৎসিত পৃথিবীর হিংশুটে দহন ক্রিয়ার
সাক্ষী হয়ে ভষ্মীভূত স্তূপে ঢাকা থাকে ! বিষাদের ঘনকালো মেঘ যেমন চরাচর ঢাকে--!!

সুরহীন--ছন্দহীন--এক'ই কথা-- একঘেয়ে জীবনের
পাশবিক নগ্ন যাপনে পরকীয়া রতিক্রিয়ায় দুর্যোগের সীমাহীন রাত্রি ছুঁয়ে ফুটপাতে ন্যংটো শয্যায় জেগে থাকে--বেওয়ারিশ উৎপাদনে !!

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

Poet-Arun-Chakraborty's-Poem

বর্ষ বরণ কবি 'অরুন চক্রবর্তীর' কবিতা

বিশ্বকবির জন্ম



মহর্ষি হিমালয় ভ্রমনে যাচ্ছেন....
মনে মনে উজ্জল হোয়ে উঠছে জ্ঞানবৃক্ষের উত্তীর্ণ বিভা,
গায়ে গায়ে লেগে আছে টেথিস সাগরের জলতলের শেষ সঞ্চয়
সুদীর্ঘ  আধ্যাত্মিক সাধনার অনাহত তরঙ্গের
মাথায় মাথায় জ্বলে উঠেছে আধ্যাত্মিক আলোর মালা
ধ্যানস্থ মহির্ষির সারা গায়ে ঝরে পড়ছে চুলের কণা কণা
বিশ্বকালীন আর্শীবাদ, মাথায় প্রতিটি চুলের গোড়ায়
রোমকূপে কোটি কোটি উন্মুখ জানালা দিয়ে
প্রবেশ করছে বেদগানের সুললিত সুর, তাল, লয়...
প্রতিটি বাণীর অক্ষরে অক্ষরে  দুলে উঠছে
সৃতি ও শ্রুতির অমৃত শতদলধারার মহান সঙ্গীত
লৌকিক দেহে ফুটে উঠছে অলৌকিক প্রশ্নমালা
অমোঘ জিজ্ঞাসা-- মহর্ষি কোন দিকে যাবেন ?
কামজ প্রেমে, না প্রেমজ কামে ??
রতিলিলায় না রতিবিলাপে ??
মহর্ষি জানেন রতিলীলায় কোন জাগতিক ফসল নেই-
তবে কি রতিবিলাপেই যাবেন ?
এ যেন অমোঘ টান, মায়াময় জটিল জালে
অবরুদ্ধ হওয়ার স্বর্গীয় বন্ধুবিন্যাস...
প্রশ্নের তীরে তীরে ক্ষতবিক্ষত শরীর মন...
মহর্ষি অনড়, লক্ষে স্থির,
অনন্ত মহাশক্তির পায়ে পড়ে আছে মন... অথচ
সংসার টানছে, টানছে কলকাতা, টানছে মহর্ষির নারী,
টানছে বৈভব, টানছে পরম্পরা, ছায়া, দক্ষিনের শ্রী,
অনাগত ফসলের অকর্ষণ, হায় মহামায়া !
মহর্ষিকে দিয়ে করিয়ে নিতে চাও তোমার কোন ইচ্ছার
পূরণ !
যোগমায়ার মুখে অলৌকিক মৃদুমন্দ হাসি...
মহাময়ার শরীরে ভেসে উঠেছে চঞ্চলতার অপূর্ব
বন্ধনবিলাস...
মহর্ষি ফিরেই এলেন...
সুদীর্ঘ বিরহ, অদেখার বিষাদ, কাঙ্খিত পূর্ণতার প্রকাশ,
ক্ষুদার্থ আধখানা বিজে ধরা পড়ে গেল আরও 
আধখানা বীজ...
তপস্যার ধ্যনে কি কিছু ফাঁক রয়ে গেল ??
আবার প্রশ্ন, আবার প্রশ্ন, প্রশ্নের পর প্রশ্ন...
মহামায়ার মুখে উজ্জ্বল  হাসি, বিজয়িনীর স্নিগ্ধ অহংকার,
যোগমায়াও মুচকি হেঁসে উঠলেন...
ও দিকে আবার টানছে পরমাত্মা হিমালয়...
মহর্ষি টান এড়াতে পরলেন না।
আবার নতুন মনে, নতুন করে, ধ্যনে বসলেন...
এভাবেই যাওয়া আসা, আবার যাওয়া আবার আসা।
দেবলোক থেকে মর্ত্যলোক, মর্ত্যলোক থেকে
আবার দেবলোক, শুধু যাওয়া, শুধু আসা, বারবার বারবার,
সংসারে জমে উঠেছে ফসল, ফসলের বিভায়, গন্ধে স্পর্শে
ভারতবর্ষ স্বাদ পাচ্ছে নতুন আনন্দ, জাগরণের অমৃত আস্বাদ
মহর্ষির চিন্তায়, মানসলোকে  ফুটে উঠল শেষ ছবি...
এইবার থামতে হবে...
আনাবিল আনন্দ স্রোতে ভাসতে ভাসতে থামতে জানতে হয়।
এই তার শেষ ফসল...
মহর্ষির প্রিয় নারীর তলপেটে এবার নতুন সূর্য  উঠবে...
মানে, সম্মানে, অপমানে, বেদনাবিধুর আনন্দসংগীতে,
সানন্দবেদনায় জ্ঞানে, বিজ্ঞানে, কবিতার অপূর্ব অলোকে
প্রেমে অপ্রেমের ছায়ায় ছায়ায়, প্রেমজ কামে, কামজ প্রেমে
রতিলীলায়, রতিবিলাপে, রতিবিলাসে বিশ্বকালীন
সৃষ্টিতে নির্মানে, মাটির তিলক পরে
বড়ো বাড়িটার আঁতুর ঘরে জেগে উঠলো
কান্না হাসির অনন্ত সংগীত ওঁয়া, ওঁ, অউম্।
ভারতবর্ষ এক বিশ্বকালীন মহামহিম কবিকে উপহার পেলো।
মহামায়া আর যোগমায়া
ওকসঙ্গে হেসে উঠলেন,
মহান তৃপ্তিতে ঢলে পড়লেন এ ওর গায়ে...

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

Bngali-New-Year-Poem। Nababarsha। 2015

পয়লা বোশেখের কবিতা_প্রবীর তা

চোদ্দশ বাইশ

(১)

গলায় বিধেঁ থাকা তিরিশে চোত গড়ান রাত
বঙ্গকূলে তোমার পাঁজর ক্ষতে জল ঢেলে
নতুন সূর্য গলে (কি) নতুন সকাল !
নতুন বছর ছোঁয়া সৌভাগ্য কপাল
পুরনো ভূলে নতুন বিনিময়
আকাশ ছেয়ে যায়
অগ্রানের নতুন রসে নতুন শফৎ আঙিনায়
ন-সমুদে নতুন সই -- নতুন বাঁধি পুরনো খাই
না কি রঙ পালটে উঁকি দেয়- পুরনোই !
পুরনো বাঁধি নতুন খাই
নিত্য নতুন কোথায় পাই।
মাটির ভিতর নারীর ভিতর সে নতুনের জন্ম হয়
পালন হয়
মুঠো মুঠো মাটি-- রক্ত ধূসর উর্দ্ধমুখী
বৃত্ত-বৃন্তে সোঁদা গন্ধ থোকা থোকা ভরপুর
মাটি নারী দুই চিরে ডাল ঝুলে ডাক দেয় ভর দুপুর।
পোহাতেই সাগর জলে সূর্যোদয়

(২)

বাজার পাশে ফেলে কলেজ রাস্তা ঝুলে
হঠাৎ গজিয়ে ওঠা পার্লার রেস্তোরাঁ
ফ্যাশান-শো হরেক ডিজাইনার আনকোরা
ভিডিও গ্রাফ লগ্ন সাইবারকাফে ডটকম্
ওয়েব সাইট- ফেসবুক-ট্যুইটারে কানচাপা রোমাঞ্চ
পুশিং পাল্লা গলে ভেসে আসা মাতাল গন্ধ
আড়চোখে আটকে যাওয়া আঁঠালো দৃষ্টি গেলা
অষ্টাদশী বুক-বসন্ত
ঝরঝরে তরতরে বঙ্গ-ললনার মতো-- সু-সজ্জিত
বোশেখ-বাইশ তুমি পয়লা !
না কি ভারত সমুদ্র বুকে- অক্টোপাস
বুকভর দেয়াল চাপা ইতিবৃত্তঃ !
গায়ে তোমার লেপ্টে থাকা বাসি পারফিউমের মতো
ভিখারি পাসোয়ান
সিঙ্গুর তাপসি মালিক ভাঙর আমরাশোল
টপকানো নন্দীগ্রাম শিশুমুখ
বিষ নিঃশ্বাস ফেলে ঘাড়ে
চাকোলতোড়ের বুভুক্ষু রামপ্রসাদ
না কি বামনডিহা-অঞ্জনার শ্বাসরুদ্ধ আর্তনাদ
হাসপাতালের চোরা নালায়
পার্কস্ট্রিট গলে কামদুনি বারাসাত ছুঁয়ে
শিয়রে তুমি চোদ্দশ বাইশ !
অভিমুখ বিস্তৃত হতে হতে
ভাসিয়ে নিয়ে যাও দূর দূর বনান্তরে
ফুরাও না কক্ষনো !
তখনো শিল্পপতি হতে চাওয়া উপকণ্ঠ উপকূলে
পুরনো প্রযুক্তি গনেশ ওল্টানো
পাল্লায় চড়ে জলের দামে রাতের অন্ধকারে
গলে মজ্জা তার বার্ণস্ফিয়ারে ;
নতুন স্বাদগন্ধে নির্ম্মোক ছাড়া নতুন ফটক মেলা
তুমি বোশেখ পয়লা।
মাথাপিছু দুই ক্রোড়ে বহুপুণ্যের জন্ম ফলে একলাখি ন্যানো
বুঝি কালো ছায়াফেলে সিঙ্গাপুর সাগরজলে।